বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার গত সপ্তাহে ঢাকার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের সময় বলছিলেন, ঢাকা-করাচি সরাসরি ফ্লাইট জানুয়ারিতে শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে এল সুখবর। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসকে ঢাকা-করাচি সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনার অনুমোদন দিয়েছে পাকিস্তান সরকার। পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার পর দেশটির সিভিল এভিয়েশন অথরিটি (সিএএ) এ অনুমতি দেয় বলে গতকাল পাকিস্তানের জিও নিউজের খবরে বলা হয়েছে।
সংবাদমাধ্যমটি বলেছে, ৫ আগস্টের পর পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের উন্নতির প্রেক্ষাপটেই দুই দেশের মধ্যে নতুন করে সরাসরি ফ্লাইট চালুর সিদ্ধান্ত এল। ফেডারেল সরকারের অনুমোদন পাওয়ার পর সিএএ মহাপরিচালক আনুষ্ঠানিকভাবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসকে ফ্লাইট পরিচালনার ছাড়পত্র দেন। প্রাথমিকভাবে ২০২৬ সালের ৩০ মার্চ পর্যন্ত এ অনুমোদন কার্যকর থাকবে।
পাকিস্তানের আকাশসীমার অনুমোদিত রুট ব্যবহারের অনুমতিও দেয়া হয়েছে বিমান বাংলাদেশকে।
পাকিস্তানের সিভিল এভিয়েশন অথরিটির কর্মকর্তারা জানান, পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারকালে বিমান বাংলাদেশকে নির্ধারিত পথ অনুসরণ করতে হবে। এছাড়া ঢাকা থেকে ফ্লাইট ছাড়ার আগে করাচি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে পূর্ণাঙ্গ ফ্লাইট বিবরণ সরবরাহ করারও শর্ত দেয়া হয়েছে।
সিএএর বরাতে খবরে বলা হয়, চলতি মাসের শেষের দিকেই পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট চালুর সম্ভাবনা রয়েছে।
পাকিস্তানে বাংলাদেশের হাইকমিশনার ইকবাল হুসেইন খান সম্প্রতি বলেছিলেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস করাচিতে সপ্তাহে তিনটি সরাসরি ফ্লাইট চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ঢাকা থেকে আকাশপথে করাচির দূরত্ব প্রায় ২ হাজার ৩৭০ কিলোমিটার। তবে সরাসরি ফ্লাইট না থাকায় এয়ারলাইনসগুলোকে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোয় ট্রানজিট নিয়ে যেতে হয় পাকিস্তানে। ট্রানজিট ফ্লাইটের কারণে বর্তমানে ভাড়া লাগে গড়ে ১ লাখ টাকারও বেশি, ২০১৯ সালে যা ছিল ৫০ থেকে ৫৫ হাজার টাকার মধ্যে।